Surah An-Nisa (৪:১৩৫) – বাংলা অনুবাদ (Bangla Translation)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُونُواْ قَوَّٰمِينَ بِٱلْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ أَوِ ٱلْوَٰلِدَيْنِ وَٱلْأَقْرَبِينَۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًۭا فَٱللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَاۖ فَلَا تَتَّبِعُوا۟ ٱلْهَوَىٰٓ أَن تَعْدِلُوا۟ ۚ وَإِن تَلْوُۥٓا۟ أَوْ تُعْرِضُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًۭا ١٣٥
বাংলায়:
“হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ় থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, অথবা পিতামাতা বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ তাদের উভয়েরই অধিকতর কল্যাণকামী। সুতরাং, তোমরা যেন [আবেগের বশে] ন্যায় থেকে বিচ্যুত না হও। আর যদি তোমরা [সাক্ষ্য] বিকৃত কর অথবা তা এড়িয়ে যাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবহিত।”
১. সূরা আল-মায়িদাহ (৫:৮) — শত্রুর প্রতিও ন্যায়বিচার
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়বিচারে অবিচল থাকো, সাক্ষ্যদাতা হও। কোনো জাতির প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না করে। ন্যায়বিচার করো—এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।
২. সূরা আল-হাদীদ (৫৭:২৫) — ওহীর মূল উদ্দেশ্য ন্যায়বিচার
নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রাসূলদের স্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সঙ্গে কিতাব ও মীযান নাযিল করেছি যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
৩. সূরা ইউনুস (১০:৫৪) — আল্লাহর বিচারে কোনো জুলুম নেই
অতঃপর তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করা হবে, এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।
৪. সূরা আল-আম্বিয়া (২১:৪৭) — কেয়ামতের দিনের পরম ন্যায়বিচার
আর আমরা কেয়ামতের দিনের জন্য ন্যায়ের পাল্লা স্থাপন করব; ফলে কোনো প্রাণীর প্রতি সামান্যতমও জুলুম করা হবে না।
৫. সূরা আল-আ‘রাফ (৭:২৯) — ন্যায়বিচার আল্লাহর নির্দেশ
বলুন, “আমার প্রতিপালক ন্যায়বিচারের আদেশ দিয়েছেন।”
৬. সূরা আশ-শূরা (৪২:১৫) — সকল মানুষের মাঝে ন্যায়
আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব।
৭. সূরা আল-ইসরা (১৭:৩৫) — লেনদেনে ন্যায়বিচার
তোমরা যখন মাপো তখন পূর্ণ মাপে দাও এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো। এটাই উত্তম ও পরিণামে অধিক ন্যায্য।
৮. সূরা আল-আহকাফ (৪৬:১৯) — প্রতিদানেও ন্যায়
প্রত্যেকের জন্য রয়েছে তার কর্ম অনুযায়ী মর্যাদা, যাতে আল্লাহ তাদের কর্মফল পূর্ণভাবে প্রদান করেন; আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।
🕌 ইসলামে ন্যায়বিচারের সারকথা
ইসলামে ন্যায়বিচার কোনো বিকল্প নয়, কোনো আবেগের বিষয় নয়।
এটি আল্লাহর আদেশ, কেয়ামতের দিনের বিচারনীতির ভিত্তি।
আত্মীয়, শত্রু, ধনী-গরিব, মুসলিম-অমুসলিম—সবার জন্য একই মানদণ্ড।

