সহিহ হাদিসসমূহ
১. নারীর সম্মতি ছাড়া বিবাহ বৈধ নয়
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“কোনো বিধবা নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না, এবং কোনো কুমারী নারীকেও তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না।”
— সহিহ আল-বুখারি ৫১৩৬; সহিহ মুসলিম ১৪১৯
২. কুমারী নারীর নীরবতাই সম্মতি
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
“কুমারী নারীর অনুমতি তার নীরবতা।”
— সহিহ আল-বুখারি ৫১৩৭; সহিহ মুসলিম ১৪১৯
৩. জোরপূর্বক বিবাহ বাতিল
খানসা বিনতে খিদাম আল-আনসারিয়্যা (রাঃ) বলেন—
“আমার পিতা আমার সম্মতি ছাড়া আমাকে বিবাহ দিয়েছিলেন। আমি নবী ﷺ-এর কাছে গেলে তিনি সেই বিবাহ বাতিল করে দেন।”
— সহিহ আল-বুখারি ৫১৩৮
৪. পিতার সিদ্ধান্ত হলেও সম্মতি অপরিহার্য
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত—
“এক কুমারী মেয়ে নবী ﷺ-এর কাছে এসে অভিযোগ করল যে তার পিতা তাকে তার অপছন্দের ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ দিয়েছে। নবী ﷺ তাকে বিবাহ বহাল রাখা বা বাতিল করার অধিকার দিলেন।”
— সুনান আবু দাউদ ২০৯৬ (সহিহ)
৫. বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীর পূর্ণ অধিকার
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“বিধবা নারী নিজের বিষয়ে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশি অধিকারী।”
— সহিহ মুসলিম ১৪২১
৬. বিবাহের আগে একে অপরকে দেখার অনুমতি (সম্মতির অংশ)
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, যদি সে এমন কিছু দেখতে পারে যা তাকে বিবাহে আগ্রহী করবে, তবে সে যেন তা দেখে।”
— সুনান আবু দাউদ ২০৮২; মুসনাদ আহমদ ১৪৫৮৬ (হাসান)
আরেক বর্ণনায়—
“তাকে দেখো; কারণ এতে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
— সুনান আত-তিরমিজি ১০৮৭; সুনান আন-নাসাঈ ৩২৩৫ (হাসান সহিহ)
৭. নারীর অনুমতি যাচাই করার নির্দেশ
আয়েশা (রাঃ) বলেন—
“আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুমারী নারী তো লজ্জা পায়।” তিনি বললেন, ‘তার নীরবতাই তার অনুমতি।’”
— সহিহ আল-বুখারি ৫১৩৭; সহিহ মুসলিম ১৪১৯
সারসংক্ষেপ (হাদিসের আলোকে)
- সম্মতি ছাড়া কোনো বিবাহ বৈধ নয়
- জোরপূর্বক বিবাহ বাতিলযোগ্য
- বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারী নিজের সিদ্ধান্তে অধিক অধিকারী
- কুমারী নারীর লজ্জাজনিত নীরবতাও সম্মতি হিসেবে গণ্য

